"ভাই, কাজ শিখব"

July 30, 2016

আমার শেখার কৌশলগুলো শেয়ার করার জন্যই পোস্টটা লিখেছি; এইটা কোন সফলতার গোপন সিঁড়ি টাইপ কিছু না। আগেই বলে রাখছি আমি কোন সফল ব্যক্তি না। না ভালো ছাত্র, না ভালো প্রোগ্রামার, না ভালো অ্যালগোরিদমিস্ট বা ম্যাথম্যাটিশিয়ান কিংবা আদর্শ সন্তান। লেখাটি গবেষণাপত্র নয়, আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত ও চিন্তাধারা।

এক্সপেরিমেন্ট করুন, নিজের সুপারপাওয়ারকে চিনুন

এক্সপেরিমেন্টের কোন বিকল্প নেই। আপনার যদি ইচ্ছে হয় টেকনোলজি নিয়ে কাজ করতে, তার মানে এই না আপনাকে প্রোগ্রামার হতে হবে। আজকাল প্রযুক্তির জগতে প্রোগ্রামারের পাশাপাশি অনিবার্য হল UI/UX ডিজাইনার, QA (Quality Assurance) টেস্টার, অ্যানালিস্ট (সিস্টেম / বিজনেস) ও অন্যান্য - দের অবদান। আমরা প্রায়ই একটা ভুল করি, ভাবি যে সিএসই পড়লে আমাকে প্রোগ্রামারই হতে হবে - এমন কোন কথা নেই। নিজের ভালোলাগা আগে।

Don’t let the noise of others’ opinions drown out your own inner voice. - Steve Jobs

সবকিছুর একটু স্বাদ নিন, দেখুন আপনার প্রোগ্রামিং বেশি ভালো লাগে, নাকি ডিজাইনিং, নাকি টেস্টিং বা অন্য কিছু। আপনার জীবন কিন্তু একটাই। আপনার ভালো লাগাকে গুরুত্ব দিন। মার্কেটের চাহিদার চিন্তা করতে হবে- ঠিক, তবে নিজের ভালো লাগাকে ভুলে গেলে চলবে না। আপনি মানুষ, জম্বি নন। অপছন্দের কাজ করার মধ্যে আনন্দ নেই। কাজে আনন্দ না পেলে সে কাজে খুব বেশি সফলতা আসে না বলে আমি মনে করি (অনেক জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিরা এমন কথা বলেছেন বলে জানি)।

আমি ছোটখাট একজন ডেভেলপার। .NET শেখার চেষ্টা করেছি, শিখেছি কিন্তু ভালো লাগেনি। পিএইচপি শিখে কাজ করার অনেক চেষ্টা করেছি, কয়েকদিন কাজ করে ছেড়ে দিয়েছি। অ্যান্ড্রয়েডেও কাজ করেছি, আমার ভালো লাগেনি। এভাবে বহু প্ল্যাটফর্ম, অনেককিছু ট্রাই করার পর দেখলাম আমার আসলে পাইথনে কাজ করতে ভালো লাগে! ডাটা নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগে। অনেক বড় তথ্যের ভাণ্ডার প্রসেসিং করে পরিসংখ্যান করতে ভালো লাগে। আমি তাইই করি ঘরে বসে।

আমার প্রথম চাকুরী ছিল প্রিয়.কম-এ। জাকারিয়া স্বপন ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে ড্রুপালে কাজ করতাম (পিএইচপিতে)। কিন্তু আমার প্যাশন ছিল পাইথনে, বাসায় ঠিকই পাইথন নিয়ে গুঁতাগুঁতি করেছি। ধীরে ধীরে ওখান থেকে এক পর্যায়ে পাইথন নিয়ে কাজ করার সুযোগ হয় P1 এ।

অতএব, প্যাশন ফেলে দেওয়া ঠিক না, আবার প্যাশনের জন্য ক্যারিয়ারকে Pause করে রাখাও অনুচিৎ বলে আমি মনে করি। বিশেষ করে প্রোগ্রামারদের কিন্তু একাধিক ল্যাঙ্গুয়েজ জানা থাকা একদম এসেন্সিয়াল। যতদিন নিজের পছন্দের ফিল্ডে কাজ করার সুযোগ না আসে, দাঁত কামড়ে কাজ করে যান - আর প্যাশনকে জীবিত রাখুন।

শিখা ফেলসি মামা - উঁহু

একটা ছুড়ি দীর্ঘদিন ফেলে রাখলে কি হয় জানেন?** জং ধরে যায়**, আর কিছু কাটা যায় না ওটা দিয়ে। অব্যবহার্য হতে পড়ে। আমার মস্তিষ্কও সেরকম। চলমান চর্চার বা প্র্যাক্টিসের মধ্যে না থাকলে কিন্তু ভুলে যাবেন যা জানতেন। মাঝেমধ্যেই একটু মস্তিষ্ক ঝালাই করা অনিবার্য। তাই অবসর সময় নষ্ট না করে উচিৎ জানা জিনিসগুলো চর্চা করা - সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে কোন ছোটখাট প্রজেক্ট বানানো।

The more man learned, the more he realized he didn’t know - Dan Brown, The Lost Symbol

একটা ল্যাঙ্গুয়েজ জানেন? আপনার জানা ল্যাঙ্গুয়েজের তালিকায় আরও কিছু ল্যাঙ্গুয়েজ যোগ করুন! শিখুন। আপনাকে হয়ত আপনার সহকর্মী ডেভেলপারকে সাহায্য করতে হতে পারে, সেক্ষেত্রে আপনার অতিরিক্ত জ্ঞান আপনাকে অনেক সাহায্য করবে।

সম্প্রতি নতুন কি কি অগ্রগতি হচ্ছে খোঁজখবর রাখুন। আমি একসময় ওয়েবসাইট বানাতে পারতাম, কয়েকদিন আগেই দেখি অফিসের ডেভেলপাররা Webpack, Browserify, React - কীসব লাইব্রেরি নিয়ে কথা বলছে আমার কোন ধারণাই নেই! টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি** খুবই দ্রুতগতিতে** আগায়। ধীরে ধীরে আগালে পেছনে পড়ে যাবেন আপনি।

বাংলাদেশে অনেক ডেভেলপার গ্রুপ আছে - phpXperts, PyCharmers, Rubyists কিংবা আপনার কলেজ / বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাব-সংগঠন, এদের সাথে যুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। কমিউনিটিগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকলে কাজ করার উৎসাহ পাবেন তাদের কাজ দেখে। মানুষের সঙ্গে, তাদের কাজের সঙ্গে পরিচিত হোন। অস্থির মানুষদের অনুসরণ করার চেষ্টা করুন, দেখুন তারা কি করে!

আমি শুরু থেকেই কয়েকজন মানুষকে অনুসরণ করে এগিয়েছি। দেখেছি তারা কি করে, কি কি আর্টিকেল পড়ে, কি কি ফ্রেমওয়ার্ক বা টুলস ব্যবহার করছে। সেখান থেকে এক্সপেরিমেন্ট করেছি, ভালো লাগাকে খুঁজে পেয়েছি।

নিজের মার্কেটিং (বোনাস)

সেলফ মার্কেটিং করতে পারা ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিজের কাজকে শোকেস করতে হবে। এজন্য নিজের স্কিলের বা যোগ্যতার সাহায্যে প্রজেক্ট করার বিকল্প নেই। হোক একটা সাইট, লাইব্রেরি, মডিউল, ফ্রেমোওয়ার্ক কিংবা কোন ওপেন সোর্স প্রজেক্টে কন্ট্রিবিউশন - নিজের যোগ্যতার প্রমাণ তৈরি করুন। গিটহাবে বা কোন কোন হোস্টিং সাইটে রাখুন। ব্লগিং করুন।

Works at বাপের হোটেল, Studies at I don’t need University I have Google লিখে রাখাটাও কিন্তু প্রফেশনালিজমের পরিচয় দেয় না। নিজেকে একজন প্রফেশনাল হিসেবে উপস্থাপন করুন।

ধৈর্য

ওভারনাইট বা এক রাতে পানি গরম করা বা ডিম সিদ্ধ করা শেখা গেলেও সিরিয়াস কিছু শেখা হয়ত একটু কঠিন হবে। ধৈর্য ধরুন। পরিশ্রম করুন বুদ্ধিমানের মত। নাট বল্টু খোলার জন্য আঙ্গুল দিয়ে সারাদিন চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু আপনার পরিশ্রম ব্যর্থ হবে। বুদ্ধিমানের মত একটা রেঞ্চ দিয়ে ঘুরালেই খুলে যাবে বল্টু

চামচে তুলে খাওয়ার আবদার করা নিষিদ্ধ, যদি কেউ শিখতে চায় - তার জন্য। চামচ ধরে খাওয়া শিখতে হবে। অন্যের হাতে খেয়ে কতদিন? সমস্যার নিজের সমাধানের চেষ্টা করতে হবে, নিজের সল্যুশন বের করার চেষ্টা করতে হবে। আগেই নিজেকে অক্ষম বানিয়ে রাখলে চলবে কিভাবে?

আজ প্রায় ছয়-সাত বছর হল আমি গুঁতাগুঁতি করছি। অধৈর্য হয়ে, লাফালাফি করে, রাগ করে পরে ঠিকই ফিরে এসে আবার, বার বার চেষ্টা করে চলেছি। গুঁতাগুঁতির ধৈর্য টিকে থাক আপনার, আমার সকলের :)

comments powered by Disqus